
ডেস্ক রিপোর্ট ::
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান। যেতে না চাইলে তাদের জোর করে তাড়িয়ে দেয়া যাবে না। রাষ্ট্রীয় পলিসি একটু কঠিন। প্রক্রিয়া শেষ করেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করা হবে।’
আজ রোববার সকালে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর এক আবাসিক হোটেলের কনফারেন্স হলে ‘তহবিলের স্বচ্ছতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক সভায় মুহাম্মদ আবুল কালাম এসব কথা বলেন। সিসিএনএফ ও কোস্ট ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালায় তিনি মুখ্য আলোচক ছিলেন।
মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একই জিনিস বারবার দেয়ার কারণে ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। অপচয় রোধ করতে হবে। ত্রাণের পণ্য সস্তায় বাজারে চলে যাচ্ছে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আরও বলেন, ‘যেকোনো কাজে সততাই মূল পুঁজি। সততার সঙ্গে সব কাজ করা যায়। যে যার অবস্থান থেকে সৎ হওয়া দরকার।’
সভায় জানানো হয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১২৯৬ জন বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। তারা প্রায় প্রতিজনই একেকটি গাড়ি ব্যবহার করেন। শুধু রোহিঙ্গাকেন্দ্রিক পাঁচ শতাধিক গাড়ি সড়কে চলাচল করে। যে কারণে প্রতিদিন সড়কে জ্যাম লেগে থাকে। দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। গাড়ি ব্যবহারে কোনো শৃঙ্খলা নেই।
সভায় টেকনাফের হ্নীলা ইউপি সদস্য মর্জিনা আক্তার সিদ্দিকী বলেন, ‘মানবিকতা দেখিয়ে আজ আমরা নিজেরাই অমানবিকতার শিকার। কিছুদিন আগে লেদা এলাকায় রোহিঙ্গার হাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি খুন হয়। এঘটনায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। মামলায় এক মাস পাঁচ দিন জেল খেটেছি। আমাকে রিমান্ডে পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।’
সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক, সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী এবং পালস কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক, সিসিএনাফের কো-চেয়ার আবু মোরশেদ চৌধুরী প্রমুখ।
আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও অংশ নেন— কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার, আইএসসিজির সমন্বয়ক মার্গো, অক্সফাম কর্মকর্তা আনিকা, সিনিয়র সিআইসি ওবাইদুল্লাহ, ডিআরআরও রইস উদ্দিন প্রমুখ।
পাঠকের মতামত